টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শেষ হতে না হতেই জমে উঠেছে সুপার এইটের সমীকরণ। ইতোমধ্যে সাতটি দল নিশ্চিত করেছে তাদের জায়গা। বাকি একমাত্র স্পটের জন্য লড়াই চলছে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে, যদিও নেদারল্যান্ডসেরও ক্ষীণ সম্ভাবনা টিকে আছে।
প্রথম পর্ব শেষে গ্রুপ বিন্যাসও স্পষ্ট। ‘এ’ গ্রুপ থেকে টানা তিন জয়ে একমাত্র দল হিসেবে সুপার এইটে উঠেছে ভারত। ‘বি’ গ্রুপ থেকে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। ক্যান্ডিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় জিম্বাবুয়ে। সেই ফলেই ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়।
‘সি’ গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ‘ডি’ গ্রুপ থেকে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা পরবর্তী পর্বে উঠেছে। এখনো একটি আসন ফাঁকা। নামিবিয়ার বিপক্ষে বাঁচামরার ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলে তারাই যাবে সুপার এইটে, হারলেই ছিটকে পড়বে—সেক্ষেত্রে সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র। গাণিতিক হিসাবে নেদারল্যান্ডসেরও সম্ভাবনা আছে। তবে তাদের শুধু ভারতের বিপক্ষে জয় পেলেই চলবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে, যাতে রান রেটে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
যে দলই শেষ পর্যন্ত উঠুক—পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা নেদারল্যান্ডস—তারা খেলবে সুপার এইটের দ্বিতীয় গ্রুপে। এর আগে আইসিসি আট দলকে বাছাই দল হিসেবে চিহ্নিত করে সুপার এইটের গ্রুপ নির্ধারণ করে রেখেছিল। প্রথম পর্বে অবস্থান যাই হোক, নির্ধারিত দলগুলো আগেই জেনে রেখেছিল তারা কোন গ্রুপে খেলবে। কোনো বাছাই দল বাদ পড়লে তাদের স্থানে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ থেকে ওঠা অবাছাই দল জায়গা নেবে। সেই হিসেবে অস্ট্রেলিয়া (বি১) বিদায় নেওয়ায় তাদের নির্ধারিত স্থানে এসেছে জিম্বাবুয়ে। আবার পাকিস্তান যদি ছিটকে যায়, তাহলে এ২ হিসেবে জায়গা নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
আগাম সূচি অনুযায়ী এক নম্বর গ্রুপে থাকার কথা ছিল ভারত (এ১), অস্ট্রেলিয়া (বি১), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সি১) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (ডি১)। দুই নম্বর গ্রুপে রাখা হয়েছিল পাকিস্তান (এ২), শ্রীলঙ্কা (বি২), ইংল্যান্ড (সি২) ও নিউজিল্যান্ড (ডি২)। অর্থাৎ, গ্রুপে প্রথম বা দ্বিতীয় হওয়া নয়—সেরা দুইয়ে থাকাই ছিল মূল লক্ষ্য।
সুপার এইটের গ্রুপ বিন্যাস
গ্রুপ ১: ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা
গ্রুপ ২: পাকিস্তান/যুক্তরাষ্ট্র/নেদারল্যান্ডস, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
খেলার ধরন ও সেমিফাইনাল সমীকরণ
প্রতিটি গ্রুপের দল নিজেদের গ্রুপের অন্য তিন দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। সেখানে এক নম্বর গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে দুই নম্বর গ্রুপের রানার্সআপের। একইভাবে দুই নম্বর গ্রুপের শীর্ষ দল খেলবে এক নম্বর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে।
________________________________________
সুপার এইটের সূচি
২১ ফেব্রুয়ারি
নিউজিল্যান্ড বনাম পাকিস্তান/যুক্তরাষ্ট্র/নেদারল্যান্ডস — সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো
২২ ফেব্রুয়ারি
শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড — বিকেল ৩:৩০, পাল্লেকেলে
ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা — সন্ধ্যা ৭:৩০, আহমেদাবাদ
২৩ ফেব্রুয়ারি
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম জিম্বাবুয়ে — সন্ধ্যা ৭:৩০, ওয়াংখেড়ে
২৪ ফেব্রুয়ারি
ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান/যুক্তরাষ্ট্র/নেদারল্যান্ডস — সন্ধ্যা ৭:৩০, পাল্লেকেলে
২৫ ফেব্রুয়ারি
শ্রীলঙ্কা বনাম নিউজিল্যান্ড — সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো
২৬ ফেব্রুয়ারি
দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ — বিকেল ৩:৩০, আহমেদাবাদ
ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে — সন্ধ্যা ৭:৩০, চেন্নাই
২৭ ফেব্রুয়ারি
ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড — সন্ধ্যা ৭:৩০, কলম্বো
২৮ ফেব্রুয়ারি
শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান/যুক্তরাষ্ট্র/নেদারল্যান্ডস — সন্ধ্যা ৭:৩০, পাল্লেকেলে
১ মার্চ
দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম জিম্বাবুয়ে — বিকেল ৩:৩০, দিল্লি
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ — সন্ধ্যা ৭:৩০, কলকাতা
সুপার এইটের এই লড়াই থেকেই নির্ধারিত হবে শেষ চারের ভাগ্য, আর সেখান থেকেই মিলবে ফাইনালের টিকিট। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য তাই ফেব্রুয়ারি-মার্চ জুড়ে অপেক্ষা করছে টানটান উত্তেজনা।