১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পি.এম

ম্যারাডোনার যে রেকর্ড ধরাছোঁয়ার বাইরে

ম্যারাডোনার যে রেকর্ড ধরাছোঁয়ার বাইরে

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে যখন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার উন্মাদনা কাজ করছে, তখন ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য ও প্রায় অসম্ভব কীর্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার গড়া একটি বিশেষ রেকর্ড বর্তমান সময়ের আধুনিক ফুটবলে ভেঙে ফেলা প্রায় অবাস্তব।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হওয়া ফুটবলার হিসেবে ম্যারাডোনা এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছেন। ১৯৭০ সাল থেকে ফিফা এই সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু করার পর দেখা যায়, ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে এই ফুটবল ঈশ্বর মোট ১৫২ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন। ২১টি ম্যাচে তার এই ফাউল হজম করার গড় ছিল প্রতি ম্যাচে ৭.২৩টি। তৎকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মূল লক্ষ্যই থাকত শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে ম্যারাডোনাকে থামিয়ে রাখা।

বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ এবং ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা ছিলেন প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রধান আতঙ্ক। আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পথে তাকে আটকাতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা প্রায়ই বেপরোয়া ও সহিংস ফুটবলের আশ্রয় নিতেন। পরিসংখ্যান বলছে, এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি পাঁচটি বিশ্বকাপে ২৬টি ম্যাচ খেলে ৭৫ বার ফাউলের শিকার হয়েছেন, যার গড় ২.৮৮। এছাড়া তালিকায় ব্রাজিলের নেইমার ৬০টি এবং পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৫৮টি ফাউল নিয়ে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন।

বর্তমান সময়ের মহাতারকারা ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও পরিসংখ্যানগতভাবে ম্যারাডোনার এই পাহাড়সম রেকর্ডের ধারেকাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। ম্যারাডোনার যুগে ফুটবল ছিল অনেক বেশি শারীরিক সংঘর্ষনির্ভর এবং কঠিন। বিপরীতে আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি গতিশীল এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় আইন অত্যন্ত কঠোর। রেফারির কড়া নজরদারি ও কার্ডের ব্যবহারের কারণে এখন আর আগের মতো ইচ্ছেমতো ফাউল করার সুযোগ নেই। ফলে ইতিহাসের পাতায় সবচেয়ে বেশি আঘাত সহ্য করে ফুটবল খেলার এই রেকর্ডটি সম্ভবত চিরকাল ডিয়েগো ম্যারাডোনার নামেই সংরক্ষিত থাকবে।