১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ পি.এম

রাষ্ট্রপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়

নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম আসতে পারে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই জ্যেষ্ঠ্য সদস্যের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে, তাঁরা হলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খান। 

বিএনপির একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, বিশেষভাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলের অন্যান্য নেতাও এই সম্ভাবনার কথা স্বীকার করছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একই দিনে বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছে। অনেক নেতা মন্ত্রী হওয়ার দিকে অগ্রসর, আর সেই সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে কে বসবেন তা নিয়েও।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার গঠনের পর পদত্যাগ করতে পারেন। তিনি গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।” এরপর তিনি আরও যোগ করেছিলেন, “নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।”

মো. সাহাবুদ্দিন সেই সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন, “সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।”

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও তিনি সেই সময় পর্যন্ত পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে তার সাক্ষাৎকারে।

অন্যদিকে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ৭৯ বছর বয়সী তিনি কুমিল্লা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদে ছিলেন (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন, এবং ২০০১)।

শিক্ষাগতভাবে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে বাংলাদেশের জন্য সমর্থন সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে জ্বালানিমন্ত্রী ও ২০০১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে বিএনপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয় থাকেন এবং নিজেকে আড়ালে রাখেন, যাতে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক না হয়।

এছাড়া নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় আছে। দলভিত্তিক অভ্যন্তরীণ পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাখার কথাও রয়েছে। তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন এবং খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামীকাল মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা হবে এবং এর কয়েক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম চূড়ান্ত হবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।