দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে নাটকীয়ভাবে আটক হলেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো। বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। BBC-এর খবরে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গত বছর প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড) আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে ইউক্রেনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসে, যাদের মধ্যে গালুশচেঙ্কোর নামও ছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, তিনি ট্রেনে ভ্রমণকালে আটক হন, যদিও তার গন্তব্য সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল জনসমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-র প্রশাসনের জন্য এই আর্থিক কেলেঙ্কারি বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নির্বাচন আয়োজনের চাপ বেড়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) জানায়, ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত পার হওয়ার সময় আটক করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম সরাসরি উল্লেখ করেনি। ইউক্রেনের একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম অবশ্য তাকে এই মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
গালুশচেঙ্কো অল্প সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এর আগে টানা তিন বছর তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ছিলেন। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেন। তার উত্তরসূরি স্বিতলানা হ্রিনচুকের বিরুদ্ধেও একই কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তীতে তিনিও পদ ছাড়েন।
আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি নাবু। সংস্থাটি জানিয়েছে, সময়মতো এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।
এদিকে রেডিও ফ্রি ইউরোপ জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষীদের আগেই নির্দেশ দেওয়া ছিল—সাবেক মন্ত্রী গালুশচেঙ্কো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। আটক হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানী কিয়েভে নেওয়া হয়েছে।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য দেশ ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো এবং বিশেষায়িত প্রসিকিউটর অফিস গত এক দশক ধরে সক্রিয় থাকলেও সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্যপদ অর্জনের পথেও দুর্নীতি দমনকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।