হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, তবে মাঠের খেলায় রইল একপেশে আধিপত্য। বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করেছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত।
গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে পরাজিত করে ভারত। তিন ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে তারা। অন্যদিকে সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। পয়েন্ট টেবিলে তাদের ঠিক ওপরে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রান তাড়ায় শুরুতেই ধস
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। হার্দিক পান্ডিয়ার করা প্রথম ওভারেই বিদায় নেন সাহিবজাদা ফারহান। পরের ওভারে জাস্প্রিত বুমরাহ আঘাত হেনে ফেরান সাইম আইয়ুব ও সালমান আলী আগাকে। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই আউট হন বাবর আজম।
চার উইকেট দ্রুত হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। পরে উসমান খান ও শাদাব খান কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা গড়লেও ব্যবধান কমানো সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ওভারে পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১১৪ রানে, ফলে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন উসমান খান। শাদাব খানের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। ফাহিম আশরাফ করেন ১০ এবং শাহিন আফ্রিদি যোগ করেন ২৩ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি।
ইষাণের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ
কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান। প্রথম ওভারেই বল হাতে এসে অভিষেক শর্মাকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তিনি।
এরপর তিলক ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামাল দেন ওপেনার ইষাণ কিষাণ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন ইষাণ। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও সাইম আইয়ুবের বলে থেমে যায় তার ইনিংস। ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা।
ইষাণের বিদায়ের পর তিলক ভার্মা ও সূর্যকুমার যাদব মিলে ৩৭ রানের জুটি গড়েন। সাইম আইয়ুবের বলে ২৪ রানে আউট হন তিলক। পরের বলেই ফিরে যান হার্দিক পান্ডিয়া। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত, যা পরবর্তীতে জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।