১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ পি.এম

রাজশাহীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, হত্যার হুমকি

রাজশাহীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, হত্যার হুমকি

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে নির্বাচনী বিতর্কের মাঝেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আহসান হাবীব জানান, তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করছিলেন। এ কারণে ধানের শীষের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতালে দেখা যায়, তার ডান হাতের দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহসান হাবীব বলেন, “শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটার সময় একই গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে ঘিরে ধরে। তারা বলেন, ‘শালা, তুই ইসফা খায়রুল হক শিমুলের (ঘোড়া) প্রতীকের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।’ রশিদের নির্দেশে তার ছেলে রাসেল লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন। মাথা বাঁচাতে গেলে ডান হাতের মাঝের দুটি আঙুল ভেঙে যায়। এরপর আজাদ, শাকিল, মারুফ, লাল্টু, ইমনসহ আরও কয়েকজন লাঠি, রড ও হকিস্টিক দিয়ে আমাকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি চালের দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও আমাকে পেটানো হয়।”

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, “নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এ ধরনের সহিংসতার বিরোধী। তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষের মানুষ। এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।”

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি, তবে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।”