নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পর সংসদ গঠন, নেতৃত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের রূপরেখা প্রণয়নে দলীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। সরকার পরিচালনার পাশাপাশি বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয়, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং সংসদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় স্পিকার পদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে স্পিকার হিসেবে দেখতে আগ্রহী দলের অভ্যন্তরীণ একটি প্রভাবশালী অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা তাকে এই পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
ড. মঈন খান বিএনপির রাজনীতিবিদ ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের ছেলে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী (১৯৯৩-৯৬) এবং বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী (২০০২-০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ সাসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
দলীয় নেতা ও বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকার পদটি কেবল সংসদের অধিবেশন পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিরোধী দলের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা, সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পার্লামেন্টের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত জোরালো হচ্ছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ খসড়া আলোচনায়ও একই বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। দলটির সূত্র বলছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে সংসদ পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি। সেই বিবেচনায় ড. আবদুল মঈন খানের নাম গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে।
বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের নেতা বলেছেন, আমরা সরকার গঠনের পাশাপাশি সংসদের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করছি। স্পিকারের পদের জন্য আমরা এমন একজন নেতাকেই বিবেচনা করছি, যিনি দলের নীতি, সাংবিধানিক অর্জন ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে সক্ষম।