১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ এ.এম

ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে সাবেক এমপির গাড়ি ভাঙচুর

ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে সাবেক এমপির গাড়ি ভাঙচুর

ময়মনসিংহের ফুলপুরে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দের ওপর হামলা চালিয়েছে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। শনিবার বিকেলে পৌরসভার বালিয়া মোড় এলাকায় দুই দফায় তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ রাখা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বিকেলে আবুল বাশার আকন্দ বালিয়া রোডে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি তুলার গুদাম পরিদর্শন করতে গেলে দলীয় নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সাবেক এমপি দলের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন। এ কারণে তারা তার ওপর চড়াও হন, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে পুলিশি সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন।

এ ঘটনায় তার সমর্থকরা ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা পুনরায় হামলা চালিয়ে দ্বিতীয় দফায় গাড়ি ভাঙচুর করেন। হামলাকারীরা ‘বিএনপির দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আবুল বাশার আকন্দের গাড়ির চালক আরমানসহ অন্তত দুইজন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী পরাজয়ের পর থেকেই ফুলপুর বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবুল বাশার আকন্দ ও মহানগর যুবদল সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিলসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পোস্ট করা হচ্ছিল ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের সমর্থকদের মাধ্যমে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার আকন্দ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে এমপি নির্বাচিত হন। পরে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেও পরে পদ ফিরে পান।

হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ বলেন, “আমি একটি আগুনের ঘটনা পরিদর্শনে এসেছিলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতা মিঠুনের নেতৃত্বে এরশাদুলসহ তিনজন আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

ফুলপুর থানার ওসি তদন্ত মো. রাশেদুল হাসান জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপির একটি গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হামলার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।