১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ এ.এম

নোটিশ ছাড়াই কারখানা বন্ধ, বকেয়া বেতন চাইছে শ্রমিকরা

নোটিশ ছাড়াই কারখানা বন্ধ, বকেয়া বেতন চাইছে শ্রমিকরা

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন শেফার্ড জিন্স লিমিটেডের শ্রমিকরা। তারা কারখানার বিনা নোটিশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং কিছু শ্রমিকের এক মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে অবস্থান নেন।

শনিবার সকালে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চললে মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। শ্রমিকরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৯ ফেব্রুয়ারি তারা বেতন পেয়ে ছুটি পাওয়ার কথা ছিল। সকালেও অধিকাংশ শ্রমিক কাজ শুরু করলেও পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, বেতন নেওয়ার জন্য তারা হেড অফিসে গিয়েছেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরার সম্ভাবনা। পরদিন বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েও তা কার্যকর হয়নি, ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

অবশেষে কারখানার ভেতরে আন্দোলন শুরু হলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ৬০ শতাংশ শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করেন, আর বাকি ৪০ শতাংশের বেতন পরদিন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই বেতনও পরিশোধ হয়নি। শনিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগদানের জন্য গেলে দেখেন মূল ফটকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেন।

মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানান তারা। এরপর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।

শেফার্ড জিন্স লিমিটেডের জি এম সাকিব হোসেন জানান, “৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ও জানুয়ারির বেতন দেওয়ার কথা ছিল। ওইদিন বেতন নিয়ে হেড অফিস থেকে আসতে বিলম্ব হওয়ায় কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে যোগ দিতে বলেন। কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিরোধে তাদের মারধর শুরু হয়। কর্মকর্তাদের কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা মারধর চালিয়ে যান। এতে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধানসহ দুজন কর্মকর্তা ও আট শ্রমিক আহত হন। কর্মরত শ্রমিকরাই যদি মব সৃষ্টি করে, তাহলে কারখানা চালানো সম্ভব নয়—এ কারণেই কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বকেয়া ৪০ শতাংশ শ্রমিকের বেতন এই সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো হবে।”

শিল্প পুলিশ-৫ ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার ঘোপিনাথ কাঞ্জিলাল জানান, “কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও ভালুকা সেনা ক্যাম্পের অধিনায়কের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রোববার থেকে কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।”