ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই দিন বিকেলের অধিবেশনে নতুন মন্ত্রিসভাও শপথ গ্রহণ করবে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এই সময়সূচির বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
সংসদ সচিবালয় ও সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের নির্দিষ্ট শপথ কক্ষে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করবেন। তবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। মূলত গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং তাদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই ব্যতিক্রমী ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।
শপথের তারিখ নিয়ে এর আগে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। প্রথমে ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ অনুষ্ঠানের কথা জানানো হলেও আইনি জটিলতা এড়াতে তা একদিন পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের গেজেট জারি করা হয় যা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের আইনি সময়সীমা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ নিলে আইনি ত্রুটি থেকে যাওয়ার যে আশঙ্কা ছিল, ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা নিরসন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে অবশিষ্ট দুটি আসনের গেজেট এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের মিত্ররা ৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।