বগুড়ার শিবগঞ্জে পছন্দের রাজনৈতিক প্রতীকে ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নূরবাগ মাঝপাড়া গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। বিষপান করা ওই নারীর নাম গোলাপী বেগম (৪৮), যিনি ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূরবাগ মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এবং তার স্ত্রী গোলাপী বেগম বিএনপির কট্টর অনুসারী। নির্বাচনের দিন সকালে এমদাদুল হক তার স্ত্রীকে নিজের পছন্দের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লায়’ ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু গোলাপী বেগম তার প্রিয় প্রতীক ‘ধানের শীষে’ ভোট দিতে অনড় থাকেন। এই বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে এমদাদুল হক ভোট দিতে কেন্দ্রে চলে গেলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিমানে নিজ ঘরে বিষপান করেন গোলাপী বেগম।
ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়া আর সম্ভব হয়নি তার। শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াহাব জানান, ওই নারীর বৈবাহিক জীবন ও পারিবারিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি গত দুদিন অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম ওই গৃহবধূর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এস এম তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি একনিষ্ঠতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে ওই নারী বিপদমুক্ত রয়েছেন এবং এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।