১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ পি.এম

কুমিল্লায় নির্বাচনি সহিংসতায় ২২ বসতঘরে হামলার অভিযোগ

কুমিল্লায় নির্বাচনি সহিংসতায় ২২ বসতঘরে হামলার অভিযোগ

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-২ আসনের হোমনা উপজেলার ডহরগোপ গ্রামে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষের জেরে ফল ঘোষণার পর বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ২২টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন পরিদর্শনে গ্রামের বিভিন্ন ঘরে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার পর হুমকি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় অনেক পুরুষ সদস্য বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে অধিকাংশ ঘরে নারী ও শিশুদেরই অবস্থান করতে দেখা গেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খানের সমর্থক নছু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাতুয়াকান্দি এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জাল ভোট দিতে কেন্দ্রে এলে কেন্দ্রের মূল সীমানায় তাদের সঙ্গে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় তাদের তিনজনের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ডহরগোপ কেন্দ্রটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খানের তালা প্রতীক ২১ ভোটে বিজয়ী হন। কেন্দ্রের ওই বিরোধের জেরে সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ও আবুল খায়ের ডাক্তারের বাড়িসহ কয়েকটি বসতঘরে হামলা হয়। পরে বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়ার জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পাল্টা হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ২২টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন বলেন, “চারটি ইউনিয়নের দায়িত্বে ছিলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ কেন্দ্রের কাছাকাছি আসলে দুই পক্ষের লোকজন চলে যায়। এ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে তাকে ফোনে জানানো হয়েছে।”

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশিদ আলম চৌধুরী জানান, “হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছে।”