নির্বাচনে জয়কে অর্জন নয়, বরং জনগণের অর্পিত গুরুদায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর সাময়িক উচ্ছ্বাস থাকলেও এখন মূল কাজ হলো মানুষের আস্থা ধরে রেখে তাদের জন্য কাজ করা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্বকে তারা ‘পবিত্র ইমানি দায়িত্ব’ হিসেবে দেখেন। নির্বাচনী জয়কে উদযাপনের সুযোগ নয়, বরং দায়িত্ব পালনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবিষয়ক কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায়ভাবে কাউকে ক্ষতি করে, চাঁদাবাজি করে বা অবৈধ কোনো দাবি তোলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ তৈরি হবে। কোনো সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না হওয়ায় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সামনে রমজান মাসকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর তিনি জোর দেন। শ্রমজীবী ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়া এবং বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচনী ফল নিয়ে তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় ফল সন্তোষজনক নয়। কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য ও ভোটারদের আচরণ বিশ্লেষণ করে কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দলকে পুনর্গঠন ও আরও সুসংগঠিত করা হবে।
নাগরিক সমস্যার মধ্যে গ্যাস সংকটকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি গ্যাস সমস্যাকে অন্যতম বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলে জানান।
নিয়মিত ওয়ার্ড ও মহল্লা পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাস্তাঘাট, পরিবেশ ও স্থানীয় সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
দলের নেতাকর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। পাশাপাশি গাছ লাগানো, খাল পরিষ্কারসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
সবশেষে তিনি বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার প্রতিই তার সমান দায়িত্ব রয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে কাজ করাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করে তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার, সাইদুর রহমান মিন্টু, আব্দুস সাত্তার, মকবুল ইসলাম খান টিপু, জহির উদ্দিন তুহিন, সুমন ভূঁইয়া, ইরফান আহমেদ, ফাহিম মেহেদী হাসান হিমেল, মুকিদুল হাসান রঞ্জু, হাজি কামাল হোসেন, রেহানা ইয়াসমিন ডলি, মোজাম্মেল হক মুক্তা, হাজি লিয়াকত আলি, সাব্বির আহমেদ আরেফ, আব্দুল কাদের, মামুনুর রশিদ অপু, শেখ আজিজুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।