১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৮ পি.এম

‘ধৈর্যের ফল ভালো হয়’, গালিগালাজে বিস্মিত মির্জা আব্বাস

‘ধৈর্যের ফল ভালো হয়’, গালিগালাজে বিস্মিত  মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী ফল ঘিরে আলোচনার মধ্যেই কৃতজ্ঞতা ও ক্ষোভ—দুই অনুভূতিই প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস। ভোটারদের প্রতি ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ধৈর্যের পরীক্ষার পরই এসেছে এই সাফল্য; তবে নির্বাচনী প্রচারে জনসম্মুখে গালিগালাজ মানুষ প্রত্যাশা করেনি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ঢাকা-৮ আসনে জয়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্র গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন এবং তাকে সমর্থন করেছেন। এজন্য সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভোটের দিন সবচেয়ে উদ্বেগের মুহূর্ত প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, “যখন শুনলাম কোনো কোনো কেন্দ্রে তারা আমাদের ব্যালট বাতিল করে দিচ্ছেন। এটাই ছিল সবচেয়ে চিন্তার মুহূর্ত।”

নিজের সহনশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছিলাম আল্লাহ আমার অনেক ধৈর্য পরীক্ষা নিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো ধৈর্যের ফল ভালো হয়। তবে এটা খুব কষ্টকর ব্যাপার ছিল।”

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বিএনপির এই নেতা মন্তব্য করেন, “নির্বাচন একটা আনন্দ ও উৎসবের ব্যাপার। যুদ্ধক্ষেত্র নয়। কিন্তু কেউ কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে, যা কাম্য নয়। আসলে নির্বাচনের ক্ষেত্রটাকে নির্বাচনী ক্ষেত্রই রাখা উচিত। অথচ এটাকে প্রথম থেকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলা হয়েছে। শুধুমাত্র নিজেকে হাইলাইটেড করার জন্য। আর কিছু নয়।”

ঢাকা-৮ আসনের ফলাফল নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের আগ্রহের কারণ হলো এখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচন করেছে। তিনি কারও কারও দ্বারা খুব বিরক্ত হচ্ছেন। এ জন্য মানুষের আগ্রহটা বেশি ছিল। কারণ জনসম্মুখে যেভাবে আমাকে গালিগালাজ করা হয়েছে, এটা মানুষ আশা করেনি। এ কারণে ফলটার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন তারা।”

কোনো বিশেষ কৌশল নেননি বলেও দাবি করেন মির্জা আব্বাস। তার ভাষায়, “আসলে আমি কোনো কৌশল অবলম্বন করিনি। তবে মানুষের সামনে আমার সম্পর্কে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করেই সে নিজেকে হাইলাইটেড করেছে। কিন্তু এটা অপকৌশল। তার জীবনে এটা প্রথম নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু আমি তো একটা করিনি। আমার সঙ্গে আগেও অনেক বাঘা-বাঘা প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এই নির্বাচনটা একটু ব্যতিক্রম হয়ে গেছে।”