১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৬ পি.এম

তারেক রহমানের জয় ভারতের জন্য কী?

তারেক রহমানের জয় ভারতের জন্য কী?

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ও তারেক রহমানের বিজয় ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসন দেখিয়েছেন, এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থ কী।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টানা ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর থেকেই তারেক রহমান একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মার্টিন লুথার কিংয়ের ঢঙে তাঁর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বার্তাটি এখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয়। বিশেষ করে শুক্রবার সকালেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে অভিনন্দন বার্তা পাঠানোকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীন ও পাকিস্তানের আগেই এই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়ে ভারত সম্ভবত বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যকার ‘স্নায়ুযুদ্ধে’ এক ধাপ এগিয়ে থাকতে চেয়েছে।

চন্দ্রশেখরের মতে, মোদির বার্তায় একটি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে, যা গত দেড় বছরের অস্থিরতা কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল ও কার্যকরী সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দেয়। ভারতের মূল উদ্বেগ ছিল শেখ হাসিনার বিদায়ের পর বাংলাদেশ যদি কৌশলগতভাবে পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তারেক রহমান যদি তাঁর মায়ের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি থেকে কিছুটা সরে এসে ভারতের স্বার্থকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, তবে দিল্লি এই পরিবর্তন নিয়ে খুব একটা শঙ্কিত হবে না।

ভারতের জন্য এই নির্বাচনের ফলাফলে সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হলো জামায়াতে ইসলামীর একক ক্ষমতায় না আসা। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জামায়াতের উত্থান হলে ভারতের জন্য বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। বর্তমানে ভারত ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতি গ্রহণ করেছে। বাণিজ্যিক নির্ভরশীলতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দুই দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভারতের আশা—তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সাথে সম্পর্কের একটি ভারসাম্যপূর্ণ নতুন অধ্যায় শুরু হবে।