১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৩ পি.এম

নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে আহত ২৫

নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে আহত ২৫

ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালিবের জয়ের খবর আসার পর থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার সকালে ধানের শীষ প্রতীকের রাশেদ খান ও ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয় এবং মহেশপুর প্রেস ক্লাব ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতারাও হামলার শিকার হন।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—তৌহিদ আলম, জোবায়ের, জাবেদ রহমান, ইভন, খোকন, আমীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন, মশিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, ইমন রহমান ও রিয়াজ উদ্দিন। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের বাবা-ছেলে এবং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আমীর হোসেনও রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর কয়েকজনকে ঝিনাইদহ ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দাবি করেন, কোনো উস্কানি ছাড়াই তাঁর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করেছেন এবং পরাজয়ের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যেও বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন না পেয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন, যেখানে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে জামায়াতের আবু তালিব বিজয়ী হয়েছেন।