১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১০ পি.এম

নির্বাচনে মেঘনা আলম ৬০৮— আম জনতার তারেক ১০৪৪ ভোট, জামানত বাজেয়াপ্ত

নির্বাচনে মেঘনা আলম ৬০৮— আম জনতার তারেক ১০৪৪ ভোট, জামানত বাজেয়াপ্ত

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে দুই প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। পর্যাপ্ত জনসমর্থন প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা-৮ আসনের মেঘনা আলম এবং ঢাকা-১২ আসনের মো. তারেক রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেশজুড়ে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হওয়ার পর রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এই চিত্র উঠে আসে।

ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীকে লড়েছিলেন মেঘনা আলম। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, তিনি পুরো আসনে মাত্র ৬০৮টি ভোট পেয়েছেন। এই আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস, যাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৯ হাজার ৩৬৬। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।

অন্যদিকে, ঢাকা-১২ আসনে আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে মাত্র ১ হাজার ৪৪ ভোট পেয়েছেন। এই আসনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি (৩৭.৪২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি)। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। উল্লেখ্য যে, এই আসনে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা (২ হাজার ৪৪৪) তারেক রহমানের প্রাপ্ত ভোটের দ্বিগুণেরও বেশি।

নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থীকে তাঁর জামানত টিকিয়ে রাখতে হলে ওই আসনে কাস্ট হওয়া মোট বৈধ ভোটের অন্তত ১২.৫ শতাংশ বা আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়। ঢাকা-৮ ও ঢাকা-১২ আসনের এই দুই প্রার্থী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় আইনগতভাবেই তাঁদের জামানত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।