১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ এ.এম

ভোট ঘিরে তারকাদের অনুভূতি

ভোট ঘিরে তারকাদের অনুভূতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মতোই উচ্ছ্বাসে অংশ নিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও গায়ক–গায়িকারা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোটদানের মুহূর্ত শেয়ার করেছেন, আবার কেউ কেউ কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গেও।

দুপুরে ভোট দিয়ে ফেসবুকে অনুভূতি জানান অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। তিনি লেখেন, ‘নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন শেষ করেছি। একটি আরও ভালো বাংলাদেশের প্রত্যাশায়। আপনি আপনার ভোট দিয়েছেন?’ একই সুরে অভিনেত্রী সাফা কবির লেখেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আমার ভোট দিয়েছি।’

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখদের কেন্দ্রে দেখা যায়। কেউ প্রথমবার ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন।

অভিনেতা আবুল হায়াত ঢাকা-৮ আসনের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। দীর্ঘ বিরতির পর ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের পরিবেশ ভালো এবং সুন্দর। যোগ্য প্রার্থীরা ভোটে জয়ী হোক, এটাই চাই। জেনুইন একটা পার্টি সরকার পরিচালনায় এলে অনেক কিছুই ঠিক হবে।’

গুলশান মডেল হাইস্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন তিন বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। ভোট শেষে ববিতা বলেন, ‘সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে, দেশ উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে যাক। এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা শিল্পী, আমাদের চাওয়া থাকবে চলচ্চিত্রের জন্য সুন্দর পরিবেশ। সিনেমা হল তৈরি হোক। সিনেমার জন্য সরকার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেবে, সেটাই প্রত্যাশা।’

ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস ঢাকা–১৭ আসনের ভোটার হিসেবে বেলা সাড়ে তিনটায় বারিধারা স্কলার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, ‘খুবই স্মুথ সব। এলাম, স্লিপ নিলাম, ভোট দিলাম, সুন্দর। কোনো ঝামেলা নেই। সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই দেশ। সামনে যে আসবে, এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে। দেশে যেন শান্তি আসে, দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে।’

অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক নিজ জেলা নওগাঁয় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ভোট দেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমারে যেড্যাত ভোট দিলে কাজ হোবে, সেড্যাত ভোট দিমু।’

তরুণ গায়িকা পারশা মাহজাবিন বগুড়া অঞ্চলের ভোটার। ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টার যানজট পেরিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো ভোট দেন। তার ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাস করি, ভোটদান কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি নাগরিকের প্রত্যক্ষ অঙ্গীকার। ব্যক্তিগত অসুবিধা বা দূরত্ব এই দায়িত্ব পালনের পথে আমার জন্য প্রতিবন্ধক হতে পারে না।’

মডেল ও অভিনয়শিল্পী নোবেল বাবা–মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা–মায়ের ভোট নিয়ে আগ্রহ ছিল বেশি। ‘আব্বার বয়স ৯১ বছর। আম্মারও কাছাকাছি। দুজনের হাঁটতে কষ্ট হয়। চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু দেখলাম, এই বয়সেও বাবা–মা দোতলায় উঠে আনন্দের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। মানুষকে স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করতে দেওয়া—এটাই কিন্তু স্বাধীনতা। প্রত্যাশা একটাই, মানুষ যেন সম্মান পায়, বাক্‌স্বাধীনতা যেন থাকে, সবাইকে সবার ভালো কাজটা করতে দিতে হবে।’

আজমেরী হক বাঁধন ঢাকা–১৬ আসনের ভোটার হিসেবে বাবা–মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে যান। তিনি বলেন, ‘আমি একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখছি। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশ গঠনে কাজ করবে। সকল ধর্ম–বর্ণের জন্য একটি নিরাপদ দেশ হবে, সেটাই প্রত্যাশা। আগামীর বাংলাদেশ একটি সাম্যের দেশ হবে। এখানে সবাই সবার অধিকার বুঝে পাবে।’

ভোট দিয়ে ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, ‘২৪–এর জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই নির্বাচন, তাঁদের শ্রদ্ধার স্মরণ করছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এক বছর আগে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। তখন বুথের ভেতর দুজন সরকারি দলের কর্মী এসে আমাকে সাজেশন দিচ্ছিল কীভাবে ভোট দেব। এরপর আর ভোট দেওয়ার কোনো আগ্রহ বোধ করিনি। এবার কেউ সাজেশন দিতে আসে নাই। নির্বিঘ্নে–নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পেরেছি।’

আশফাক নিপুন সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। লাইন বেশি থাকায় আমার পালা আসে ৮টা ১০ মিনিটে। খুব সুন্দর পরিবেশ, ভোটাররা উৎসাহী, কর্মকর্তারাও খুব আন্তরিক—ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।’

এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ওমর সানী, অপূর্ব, অনন্ত জলিল, বর্ষা, তমা মির্জা, প্রভা, মুমতাহিনা টয়া, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, কেয়া পায়েল, আইশা খানসহ আরও অনেকে। প্রবীণ থেকে নবীন—শিল্প–সংস্কৃতি অঙ্গনের নানা প্রজন্মের তারকাদের অংশগ্রহণে ভোটের দিনটি হয়ে ওঠে এক ধরনের উৎসবমুখর আয়োজন।