১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ পি.এম

ঢাবি ভিসির ‘বিদায়বেলায়’তড়িঘড়ি করে ২০৭ জনকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বানানোর বন্দোবস্ত

ঢাবি ভিসির ‘বিদায়বেলায়’তড়িঘড়ি করে ২০৭ জনকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বানানোর বন্দোবস্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের বিদায়বেলায় একসঙ্গে ২০৭ জন সহকারী রেজিস্ট্রারকে পদোন্নতির সুপারিশ করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রশাসন জানাচ্ছে, এটি বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত।

উপাচার্য অধ্যাপক বলেন, “সরকারের অন্যান্য অফিসের মত যদি কেউ বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তার জন্য আমরা একবার নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তাদের পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বিস্তারিত পরিস্থিতি:

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী, সহকারী রেজিস্ট্রারের মোট অনুমোদিত পদের এক-তৃতীয়াংশকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে রেজিস্ট্রার দপ্তরে মাত্র ১২টি অনুমোদিত সহকারী রেজিস্ট্রার পদ রয়েছে, যেখান থেকে বছরে ৪ জন পদোন্নতির সুযোগ আছে। এছাড়া অন্যান্য দপ্তরে সমমানের ৫১টি পদ থেকে ১৭ জন পদোন্নতি পেতে পারে। সুতরাং, সব মিলিয়ে বছরে ২১ জন পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও প্রশাসন এবার ২০৭ জনকে পদোন্নতির সুপারিশ করেছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেতন খাতে বছরে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে এবং প্রভাব পড়বে পেনশনেও।

প্রক্রিয়া ও কমিটি:

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পদোন্নতির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সিন্ডিকেটের (০৯-০৯-২০২০ ও ১৩-১১-২০২৪) অনুমোদিত নীতিমালার পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীদের তালিকা যাচাই করার জন্য গঠিত হয় কারিগরি কমিটি, যার চেয়ারম্যান ছিলেন রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। কমিটির সদস্যরা ছিলেন অফিসার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবু ইউসুফ।

উক্ত কমিটি অফিসার্স সমিতির তালিকা অনুযায়ী ১৮৭ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে। গত ১ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় এটি গৃহীত হয়। এরপর ২০ জনের পুনর্বিবেচনার আবেদন মঙ্গলবার স্বীকৃতি পায়। আগামী ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি বোর্ড সাক্ষাৎকার নেবে এবং তার পর সিন্ডিকেটের অনুমোদনের মাধ্যমে পদোন্নতি কার্যকর হবে।

বিতর্ক ও প্রশ্ন:

বছরে যেখানে ২১ জন পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ, সেখানে ২০৭ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন বৈষম্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তাদের চেয়ে জুনিয়র কর্মকর্তারাও পদোন্নতির তালিকায় রয়েছে।

রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন বলেন, “এখানে শুধু পদের আপগ্রেডেশন হবে। যারা দীর্ঘদিন একই পদে ছিলেন, তাদের বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদোন্নতি হচ্ছে। এটি প্রথমবার করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে না এবং এটি জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের বৈষম্য নিরসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্যের বিদায়:

অন্যদিকে ভোটের দুই দিন আগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি মনে করছি, দায়িত্ব পালনের এই পর্যায়ে আমরা ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকার চাইলে কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার আপত্তি নেই।”

ঢাবি প্রশাসনের এই পদোন্নতি উদ্যোগ নজিরবিহীন, বাজেট ও পেনশন খাতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং বিদায়ী উপাচার্যের সময়ে নতুন ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে।