১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৭ এ.এম

তারকাদের ভাবনায় এবারের নির্বাচন

তারকাদের ভাবনায় এবারের নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক তারকাই এটিকে দেশ ও শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। শোবিজের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন দ্য ভয়েস২৪ এর সাথে।

ফরিদা আক্তার ববিতা: 
“আমি ছোটবেলা থেকেই নিজেকে চলচ্চিত্রের মানুষ মনে করি। চলচ্চিত্রই আমার ধ্যান-জ্ঞান। তাই সিনেমার সব বিষয়েই আমি ভালো চাই। নতুন সরকারের কাছেও আমার প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন চলচ্চিত্রের মতো বিনোদনের এই মাধ্যমটার দিকে একটু আলাদা নজর দেয়। আকাশ সংস্কৃতির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে যেন আমাদের মূল্যবোধের কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।”

আবুল হায়াত:
“আমি বরাবরই বলে আসছি, নাটককে যেন শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যখন এ ঘোষণাটি আসবে তখন এ শিল্পের সঙ্গে পেশাদার যারা কাজ করছেন তাদের পেশাটা সংরক্ষিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নতুন সরকার যদি এ অঙ্গনের দিকে আরেকটু মনোযোগী হয় তাহলে শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও বেশি করে প্রশংসিত হবে আমাদের শিল্পকর্ম।”

আসিফ আকবর:
“এবারের জাতীয় নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত ৫৩ বছর বাংলাদেশে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে এটার একটা পার্থক্য আছে। কারণ এই নির্বাচনটা জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের নতুন দিনের আশা, প্রত্যাশা অনেক বেশি। সুতরাং যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের ভুল করা চলবে না। জনগণের পালস, সমাজের পালস এবং ভবিষ্যতে রাজনীতির রাজনীতিকায়ন, সংস্কার সবকিছুর প্রশ্ন আসবে এখানে। সুতরাং যারাই নেতৃত্বে আসবে, যারাই ক্ষমতায় আসবে, তাদের আরও সতর্ক হতে হবে এবং গণমুখী হতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে হবে।”

আজমেরী হক বাঁধন:
নেদারল্যান্ডসে অবস্থানরত বাঁধন বলেন, “সবার আগে চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচিত সরকার এসে দেশের হাল ধরুক। তারপর চাইব নারীবান্ধব, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ, যেখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি থাকবে না, থাকবে সুশাসন, স্বাধীনতা, কথা বলার অধিকার।”

আশফাক নিপুন:
“ভোট দেওয়া মানুষের নাগরিক অধিকার। জনগণ যে প্রকৃত ক্ষমতার উৎস, তা প্রমাণের চর্চা শুরু হতে যাচ্ছে। এবার একই সঙ্গে গণভোটের বিষয়টিও নির্বাচনকে বিশেষ নির্বাচনে পরিণত করেছে। সবকিছু মিলেই ইতিবাচক একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, সে বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যর্থ হলে তার দায়ও নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদেরও সঠিক আচরণ করতে হবে। তরুণরা সামাজিক নিরাপত্তা চায়, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা চায়, দুর্নীতি হোক তা চায় না, তদবির বাণিজ্য বন্ধ চায়, যোগ্যদের ক্ষমতায় চায়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ চায়।”

তৌসিফ মাহবুব:
“আমি শিল্পী, আমি কোনো দলের না। তবে সাধারণ জনগণ হিসেবে বলব, নির্বাচনে যে-ই জিতে আসুক তারা যেন প্রথমে জনগণের কথা ভাবে। আর যারা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা করছেন নির্বাচন-পরবর্তী সময় যেন সেটা ঠিক থাকে। আপনারা প্রতিশ্রুতি রাখবেন, জনগণ হিসেবে আমরা এটুকুই চাই।”

রাজিব:
সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রাজিব বলেন, “পরবর্তী সরকারের সমালোচনা করতে হলে ভোট দিতে হবে। যারা গ্রামের ভোটার কিন্তু শহরে থাকেন তারা সময় নিয়ে বাড়ি চলে যান। ভোট নষ্ট কইরেন না। ২০০৫ সালে যারা আমাকে ভোট দিয়ে সংগীতশিল্পী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, তাদের প্রতি সারাজীবনের কৃতজ্ঞতা। ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনে দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমুন্নত ও কাজের ক্ষেত্রকে বেগবান রাখতে আবার ভোট চাইলাম। এবার আমাকে নয় ভোট দিন ধানের শীষে।”

মুহিন:
বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন তিনি। “এবার সারা বাংলাদেশে নির্বাচনী একটা জনসমাবেশ তৈরি হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া। এবার নিজের অধিকারের ভোটটা দেওয়ার জন্য এলাকায় থাকব। বাবার সঙ্গে কাজ করেছি, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায়। ফ্যাসিবাদ সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। ধানের শীষে ভোট দিয়ে নতুন দিনের সূচনা হবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে এই বার্তা স্পষ্ট: শুধু ভোট নয়, এটি শিল্প, সংস্কৃতি ও সমাজের উন্নয়নের দিকেও প্রভাব ফেলবে। তারকারা আশা করছেন, নির্বাচনের ফলাফল যেন গণমুখী ও সুষ্ঠু হয়।