১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৫ এ.এম

পিএসএল-র নিলাম আজ, নাম আছে ৫৩ বাংলাদেশী ক্রিকাটারের

পিএসএল-র নিলাম আজ, নাম আছে ৫৩ বাংলাদেশী ক্রিকাটারের

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এবার নতুন অধ্যায়। প্রচলিত প্লেয়ার্স ড্রাফট পদ্ধতি বাদ দিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সরাসরি নিলাম। আজ লাহোরে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই নিলাম কার্যক্রম। এবারের নিলামে নিবন্ধন করেছেন মোট ৯০৩ জন ক্রিকেটার, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আছেন ৫৩ জন।

নিলামের কাঠামো ও নিয়ম

প্রথমদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছিল, প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ চারজন করে খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে। তবে নিলাম পদ্ধতিতে ক্যাটাগরির কার্যপ্রণালি নিয়ে তখন স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। আগে ড্রাফট ব্যবস্থায় দলগুলো নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী খেলোয়াড় বেছে নিত।

নতুন নিলাম ব্যবস্থায় খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্যের ওপর চারটি স্তর নির্ধারণ করেছে পিসিবি। সেগুলো হলো—

• ৪ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

• ২ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

• ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

• ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

প্রতিটি স্তরে ন্যূনতম বিড বৃদ্ধির সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে—

• ১ কোটি ১০ লাখ রুপির কম বিডে সর্বনিম্ন বৃদ্ধি: ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি

• ২ কোটি ২০ লাখ রুপির কম বিডে সর্বনিম্ন বৃদ্ধি: ৫ লাখ রুপি

• ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির কম বিডে সর্বনিম্ন বৃদ্ধি: ১০ লাখ রুপি

• ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির বেশি বিডে সর্বনিম্ন বৃদ্ধি: ১৫ লাখ রুপি

নিলামে অবিক্রীত থাকা খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ থাকবে পরে যুক্ত হওয়া দুটি নতুন দলের সঙ্গে। এই দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি চারজন করে খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে পারবে।

নিলাম বাজেট কত?

প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নিলাম বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি। তবে দলগুলো চাইলে গত মৌসুমে পিএসএলে না খেলা কোনো বিদেশি ক্রিকেটারকে সরাসরি চুক্তিতে নিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বাজেট বেড়ে দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে। বিদেশি খেলোয়াড় সরাসরি চুক্তিতে নিতে চাইলে পিসিবি আর্থিক সহায়তা দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।

স্কোয়াড গঠন ও একাদশের নিয়ম

প্রতিটি দলকে কমপক্ষে ১৬ জন এবং সর্বোচ্চ ২০ জন ক্রিকেটার নিয়ে স্কোয়াড সাজাতে হবে। এর মধ্যে বিদেশি খেলোয়াড় থাকতে পারবেন ন্যূনতম পাঁচজন এবং সর্বোচ্চ সাতজন।

ম্যাচের একাদশে অন্তত তিনজন এবং সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানো যাবে। পাশাপাশি স্কোয়াডে অন্তত দুজন আনক্যাপড অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটার রাখা বাধ্যতামূলক। প্রতি ম্যাচের একাদশে কমপক্ষে একজন আনক্যাপড অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে হবে।

চুক্তির মেয়াদ

খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি হবে দুই বছরের জন্য। এই মৌসুম শেষে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ সাতজন ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারবে। ২০২৭ সালের পিএসএল শেষে অনুষ্ঠিত হবে মেগা নিলাম; সেই নিলামের আগে পাঁচজন খেলোয়াড় রিটেইন করার সুযোগ থাকবে।

নিলামে থাকা বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

ভিত্তিমূল্য: ২ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

১. সাকিব আল হাসান

২. মুশফিকুর রহিম

৩. জাকির হাসান

ভিত্তিমূল্য: ১ কোটি ১০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

৪. রিশাদ হোসেন

৫. হাসান মাহমুদ

৬. জিশান আলম

৭. লিটন দাস

৮. মাহফুজুর রহমান

৯. মাহমুদুল হাসান

১০. নাহিদ রানা

১১. তানভীর ইসলাম

১২. মেহেদী হাসান মিরাজ

১৩. মোসাদ্দেক হোসেন

১৪. নাজমুল হোসেন

১৫. পারভেজ হোসেন

১৬. নুরুল হাসান

১৭. রিপন মণ্ডল

১৮. মেহেদী হাসান

১৯. শামীম হোসেন

২০. শরীফুল ইসলাম

২১. তাইজুল ইসলাম

২২. তানজিদ হাসান

২৩. তাসকিন আহমেদ

২৪. তাওহিদ হৃদয়

২৫. ইয়াসির আলী

ভিত্তিমূল্য: ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি

২৬. আব্দুল গাফফার সাকলাইন

২৭. আবু হায়দার

২৮. আফিফ হোসেন

২৯. আহরার আমিন

৩০. আকবর আলী

৩১. আলিস আল ইসলাম

৩২. আরিফুল ইসলাম

৩৩. জাকের আলী

৩৪. খালেদ আহমেদ

৩৫. মাহিদুল ইসলাম

৩৬. নাসির হোসেন

৩৭. সাব্বির রহমান

৩৮. মেহরব হোসেন

৩৯. মাহফিজুল ইসলাম

৪০. মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী

৪১. মোহাম্মদ নাঈম

৪২. মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

৪৩. মুকিদুল ইসলাম

৪৪. নাসুম আহমেদ

৪৫. নাঈম হাসান

৪৬. রকিবুল হাসান

৪৭. রুবেল হোসেন

৪৮. সাব্বির হোসেন

৪৯. সাদমান ইসলাম

৫০. শাহাদাত হোসেন

৫১. সৌম্য সরকার

৫২. তানজিম হাসান

৫৩. ওয়াসি সিদ্দিকী

এর বাইরে মোস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে লাহোর কালান্দার্স।

নতুন নিলাম পদ্ধতিতে পিএসএলের দল গঠন প্রক্রিয়া কতটা বদলে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।