গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে একাধিক এলাকায় পুনরায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবারের এই হামলায় অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
চিকিৎসা সূত্রগুলো জানায়, গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-নাসর স্ট্রিটের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী আল-নাসর স্ট্রিট এলাকাটি ইসরায়েলি সেনাদের নির্ধারিত অবস্থানের বাইরে থাকলেও সেখানে এই হামলা চালানো হয়।
একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস উপকূলে মাছ ধরার সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর গোলার আঘাতে এক ফিলিস্তিনি জেলে গুরুতর আহত হন। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরের আবু তাম্মাম স্কুলের কাছে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ৫৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরও একজন কৃষক প্রাণ হারান। এর আগে দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন পয়েন্টে চালানো হামলায় আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্প্রতি রাফাহ এলাকায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে আসছিলেন। যদিও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার অতিক্রম করেছে এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নতুন করে ৫৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৫৫৩ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘকালীন এই যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।