৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পি.এম

জাপানে আকস্মিক সাধারণ নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির

জাপানে আকস্মিক সাধারণ নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির

আকস্মিক সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই জয়ের মাধ্যমে দেশটির সংসদের শক্তিশালী নিম্নকক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে তার দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলে ক্ষমতাসীন এলডিপি সংসদের নিম্নকক্ষে বিপুল আসন দখল করেছে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি জয় পেয়েছে ৩১৬টি আসনে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ আসনের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক ফলাফলে জয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। সে সময় তিনি জানান, তার সরকার দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্বনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

তিনি বলেন, “আমরা রাজস্বনীতিকে টেকসই করব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গত সাত দশকের বেশির ভাগ সময় জাপান শাসন করা এলডিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন সংক্রান্ত অনিয়ম ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চাপে পড়ে। দলের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় আকস্মিক নির্বাচনের ডাক দেন তাকাইচি।

তবে নির্বাচনী প্রচারণায় খাদ্যপণ্যে আট শতাংশ বিক্রয় কর স্থগিতের প্রতিশ্রুতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণভার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এই কর ছাড়ের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর মধ্যেই প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে ভোটাররা কেন্দ্রে হাজির হন। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু ভোটকেন্দ্র আগেভাগেই বন্ধ করে দিতে হয়।

ভোটার কাজুশিগে চো (৫৪) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “মনে হচ্ছে তিনি দেশকে একসঙ্গে টেনে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।”

অন্যদিকে আরেক ভোটার মাইনেকো মোরি (৭৪) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাকাইচির কর ছাড়ের পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করতে পারে।

হোসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ক্রেইগ মার্ক আল জাজিরাকে বলেন, এই নির্বাচনী ফল তাকাইচিকে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “বাজেট হোক বা প্রতিরক্ষা ব্যয়—তিনি চাইলে যেকোনো আইন পাশ করাতে পারবেন।”

এদিকে জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী লবিগোষ্ঠী কেইদানরেনের প্রধান এই নির্বাচনী ফলকে দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।