৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৯ পি.এম

লেবাননে আল-ইসলামিয়ার নেতাকে ইসরায়েলি বাহিনীর অপহরণ

লেবাননে আল-ইসলামিয়ার নেতাকে ইসরায়েলি বাহিনীর অপহরণ

লেবাননের রাজনৈতিক দল আল-জামাআ আল-ইসলামিয়ার প্রভাবশালী নেতা আতউই আতউইকে তার নিজ বাসভবন থেকে অপহরণ করেছে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী।

আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের হাসবাইয়া জেলার হিব্বারিয়েহ গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর অনুপ্রবেশ ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত আতউই আতউই ওই এলাকার সাবেক মেয়র এবং দলটির মারজায়ুন ও হাসবাইয়া অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আল-জাজিরা ও লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা সীমান্ত পেরিয়ে লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং আতউই আতউইয়ের বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালায়। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সেনাদের এই অভিযানে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। আল-জামাআ আল-ইসলামিয়া এই ঘটনাকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত এবং একটি নগ্ন আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরবর্তীতে এই অভিযানের কথা স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ‘টার্গেটেড অপারেশন’ চালানো হয়েছে। আইডিএফ আতউই আতউইকে একজন ‘জ্যেষ্ঠ সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযোগ, এই দলটি উত্তর ইসরায়েলে বিভিন্ন সময় সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চুক্তির শর্তানুযায়ী ইসরায়েলি সেনাদের লেবানন ত্যাগের কথা থাকলেও তারা এখনো কৌশলগত পাঁচটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহকেও সীমান্ত থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে লিতানি নদীর ওপারে সরে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। লেবানন সরকারের দাবি, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন লেবানিজ নাগরিককে তাদের ভূখণ্ড থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

এদিকে একই দিন দক্ষিণ লেবাননের ইয়ানুহ শহরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে তিন বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। একটি চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অপহৃতদের মুক্তি দাবি করেছে।