৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০ এ.এম

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে এসেছে ৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে এসেছে ৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

ফেব্রুয়ারির প্রথম সাত দিনের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৭৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার দেশে প্রবেশ করছে।

গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা থেকে স্পষ্ট যে এবার প্রবাসীরা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা বজায় থাকলে মাস শেষে তা নতুন রেকর্ড স্থাপন করবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২,০২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর প্রবৃদ্ধির হার ২১.৭০ শতাংশ বেশি।

বর্তমান অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ এখন পর্যন্ত ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩,০৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে দেশে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা কোনো এক মাসে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জানুয়ারিতেও প্রবাসীরা ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন, যা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতিকে স্বস্তি দেবে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং ডলার সংকট মোকাবেলায় প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা এবং সরকারের উৎসাহও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই ধারা বজায় থাকলে বছরের শেষে রেমিট্যান্স আহরণের লক্ষ্য সহজেই ছাড়িয়ে যাবে।