দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর করের চাপ কমাতে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কেবল আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য থাকবে।
এ তথ্য বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম বলেন, “এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে গ্যাস সরবরাহের বিপণন খরচ কমবে। এর ইতিবাচক প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে।”
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ সীমিত হওয়ায় বর্তমানে ৪০ শতাংশের বেশি পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় এলপিজি প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলার সংকট ও উচ্চ কর কাঠামোর কারণে দেশে এলপিজির দাম কয়েক দফায় বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কখনো কখনো ১২৫০ টাকার সিলিন্ডার বাজারে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার নজিরও দেখা গেছে।
এলপিজি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পর্যায়ে কর কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, একাধিক স্তরে ভ্যাট ও আগাম কর প্রয়োগের ফলে কার্যকর করভার অনেক বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। তাদের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক বলেন, “স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ায় আমদানি ও বিতরণ ব্যয় কমবে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় হ্রাস পেলে তা ধাপে ধাপে খুচরা বাজারেও প্রতিফলিত হবে।”