৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৮ পি.এম

একুশে পদক পাচ্ছে ব্যান্ড ওয়ারফেজ

একুশে পদক পাচ্ছে ব্যান্ড ওয়ারফেজ

বাংলাদেশের হেভি মেটাল ও রক সংগীতের এক অমর নাম ‘ওয়ারফেজ’। ১৯৮৪ সালের ৫ জুন ঢাকায় গঠিত এই ব্যান্ডটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রকপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে রেখেছে। এবার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক পাচ্ছে এই ব্যান্ডটি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই ঘোষণা দেন। ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য সরকারের মনোনীত হয়েছেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকায় জায়গা পায় ‘ওয়ারফেজ’।

প্রতিষ্ঠার প্রারম্ভে ইংরেজি গান কাভার করত ব্যান্ডটি। তবে তখনকার ব্যান্ড ‘ফিডব্যাক’-এর ভোকাল মাকসুদুল হকের পরামর্শে ইংরেজি গান ছেড়ে বাংলা গান করা শুরু করে তারা। এরপরই বাংলা হেভিমেটালে তাদের বিশেষ স্থান নিশ্চিত হয়।

১৯৯১ সালে ব্যান্ডের নামেই প্রকাশিত হয় প্রথম হেভি মেটাল অ্যালবাম ‘ওয়ারফেজ’। এর মাধ্যমে বাংলা হেভিমেটালের নতুন যুগের সূচনা হয়। তাদের বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একটি ছেলে’, ‘বসে আছি’, ‘রাত্রি’, ‘আশা’, ‘সন্ধ্যা’, ‘অসামাজিক’, ‘জীবনধারা’, ‘ধূসর মানচিত্র’, ‘মহারাজ’, ‘মৃত্যু এলিজি’, ‘পথচলা’ ও ‘পূর্ণতা’।

ব্যান্ডের দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড্রামার টিপু ও গিটারিস্ট কমল আজও ব্যান্ডকে টিকিয়ে রেখেছেন। বর্তমান লাইনআপে রয়েছেন টিপু (ড্রাম), পলাশ (ভোকাল), কমল (লিড গিটার), সামির ও সৌমেন।

একুশে পদক পাওয়ার খবর পেয়ে ব্যান্ড নেতা শেখ মনিরুল আলম টিপু বলেন, “একটি কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখনই খবরটি এল। আমরা সবাই আপ্লুত। সম্ভবত দেশের প্রথম ব্যান্ড হিসেবে রাষ্ট্রের এ সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছে ওয়ারফেজ।”

তিনি সাবেক সদস্যদেরকেও স্মরণ করে বলেন, “এ পুরস্কার সবার। প্রতিটি সদস্য ও নেপথ্যের মানুষজনের অবদান রয়েছে। আমাদের পরিবারের আত্মত্যাগ এবং শ্রোতাদের সমর্থন ছাড়া আজকের ওয়ারফেজ সম্ভব হতো না।”