আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না পাকিস্তান—এই অবস্থানেই অনড় থাকল দেশটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত বদলাতে চেষ্টা চললেও পাকিস্তান সরকার দীর্ঘ আলোচনার পরই এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকা উচিত পাকিস্তানের। খবরটি প্রচার করেছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও টিভি।
এর আগে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট লিগ আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের মাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো ভারত ছাড়াও অন্য ভেন্যুতে আয়োজনের অনুরোধ জানানো হলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। সংস্থাটি জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের পেছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, বাংলাদেশের বিষয়ে আইসিসির কথিত পক্ষপাতমূলক ভূমিকা এই সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবাদস্বরূপ ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাকিস্তানি সূত্রগুলোর অভিযোগ, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থাটি কার্যত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাদের দাবি, এতে আইসিসির ন্যায্যতা ও সমতার নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশভেদে ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এদিকে আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আশা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ‘উভয়পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান’-এর দিকে অগ্রসর হবে। সংস্থাটির মতে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের—বিশেষ করে পাকিস্তানের লাখো সমর্থকের—স্বার্থের পরিপন্থী।
বর্তমানে পাকিস্তান জাতীয় দল শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থান করছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ও ভারতের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।