৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৯ পি.এম

প্রতারণা মামলায় নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মুখ খুললেন রোজ

প্রতারণা মামলায় নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মুখ খুললেন রোজ

গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে নোবেল, তার মা ও স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বাদীর আবেদনের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত আনাননিয়া শবনম রোজের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাভুক্ত অন্যরা হলেন—নোবেলের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং মাসুদ রানা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম আদালতে জানান, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নোবেল দীর্ঘ সময় ধরে বাদীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এই অর্থ নেওয়া হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪১৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারা এবং পর্নোগ্রাফি আইনের ৮-এর ১ ও ২ উপধারা উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পিবিআই অভিযোগের তদন্ত চালায় এবং চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করলে আদালত তা অনুমোদন করেন।

ভুক্তভোগী আনাননিয়া শবনম রোজ জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল। তার অভিযোগ, নোবেল ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং এভাবে তার কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। সামাজিকভাবে বিয়ে না করায় একদিন তাকে নোবেলের স্টুডিওতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। রোজের ভাষ্য অনুযায়ী, নোবেল প্রায়ই হুমকি দিতেন—“আইন দিয়ে আমাকে দমন করতে পারবে না।”

এর আগেও নোবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ মে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে ডেমরা থানায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।