বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন অভিনয়ের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভাবনা, জীবনদর্শন ও স্মৃতির কথা নিয়মিতই ভাগ করে নেন। এবার জীবনের সংগ্রাম, নীরবতায় কাটানো সময় এবং বাবার দর্শন নিয়ে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করলেন তিনি।
মাঝেমধ্যেই প্রয়াত বাবা, কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের লেখা কিংবা কথোপকথনের অংশ শেয়ার করেন অমিতাভ। সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়—এমন কিছু ভাবনাই তিনি তুলে ধরেন অনুসারীদের সামনে। বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত স্মরণ করে জীবন ও সংগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা বলতেন, জীবন সংগ্রামে ভরা। তিনি নিজেও দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করেছেন। জীবন থাকলে সংগ্রাম থাকবেই।’
অমিতাভ আরও স্মরণ করেন এলাহাবাদের কবি ফিরাক গোরখপুরীকে, যিনি ছিলেন তার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অভিনেতার লেখায় উঠে আসে, ফিরাক গোরখপুরীর কবিতা ছিল সামাজিক ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে, সাম্প্রদায়িকতার বাইরে—ঠিক যেমন ছিলেন হরিবংশ রাই বচ্চন। জাতপাতের চিন্তা থেকে দূরে থাকলেও আবেগ ও মানবিকতায় তাদের মধ্যে ছিল গভীর মিল।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে, প্রায় ভোর ৪টার দিকে এই পোস্টটি করেন অমিতাভ। সেখানে তিনি রাতের নীরবতার শক্তির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। সময় প্রায় ভোর ৪টা। আমি রাতের নীরবতায় ডুবে আছি। সারাদিনের চিন্তার চেয়ে নীরবতার শক্তি অনেক বেশি। এটা প্রশান্তির এক সতেজ মুহূর্ত—যতক্ষণ না আপনি সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে পড়ছেন।’
একই পোস্টে তিনি এই পৃথিবীর বৈচিত্র্য ও মানুষের ভূমিকা নিয়েও ভাবনা তুলে ধরেন। অমিতাভ লেখেন, ‘কী অসাধারণ এক পৃথিবীতে আমরা বাস করি—যেখানে ৮.২ বিলিয়ন মানুষের বিকল্প পেশা হয়ে উঠেছে সাংবাদিকতা, যোগাযোগ স্থাপন, মতামত তৈরি ও তথ্য আদান-প্রদান।’
নীরবতা, চিন্তা আর জীবনের সংগ্রাম—এই তিনের মেলবন্ধনেই অমিতাভ বচ্চনের সাম্প্রতিক এই আত্মকথন ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।