১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ এ.এম

একিতিকের জোড়া গোলে দুর্দান্ত জয় লিভারপুলের

একিতিকের জোড়া গোলে দুর্দান্ত জয় লিভারপুলের

অ্যানফিল্ডে যেন জ্বলে উঠল লিভারপুল। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দারুণ প্রত্যাবর্তনে নিউক্যাসলকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে আর্নে স্লটের দল। এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে টপকে পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে লিভারপুল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা শুনতে হয়েছিল লিভারপুলকে। তবে ২০২৬ সালের প্রথম লিগ ম্যাচেই তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। বরং গতি ও স্টাইলের দুর্দান্ত সমন্বয়ে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষে দুইয়ের বেশি গোল করার পর এবারই প্রথম অ্যানফিল্ডে তিনটির বেশি গোল করল তারা।

জয়ের মূল নায়ক ছিলেন হুগো একিতিকে। দুটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই জুটি ইতোমধ্যে ছয়টি গোল তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে—প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে কার্যকর জুটিগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে তারা।

তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল লিভারপুলের জন্য হতাশার। দীর্ঘ এক বছর পর ওপেন প্লে থেকে গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা। মিডফিল্ডে ব্রুনো গিমারায়েস ও জোয়েলিন্টনের অনুপস্থিতিতে লিভারপুলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি নিউক্যাসল।

বিরতির ঠিক আগে ভির্টজের দুর্দান্ত ড্রিবলিং থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান একিতিকে। এরপর গোলের দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে মিলোস কেরকেজের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবারও জাল খুঁজে নেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মুহূর্তেই ম্যাচ চলে যায় লিভারপুলের নিয়ন্ত্রণে।

মধ্য সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ খেলে আসা নিউক্যাসল দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্ত দেখায়। সেই সুযোগে ভির্টজ ও মোহামেদ সালাহর বোঝাপড়ায় আসে লিভারপুলের তৃতীয় গোল, যা কার্যত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ দিকে আবেগঘন মুহূর্ত এনে দেন ইব্রাহিমা কোনাতে। বাবার মৃত্যুর পর তিন ম্যাচ পর শুরুর একাদশে ফিরে গোল করে লিভারপুলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এই জয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর লিভারপুল এখন টপ ফাইভে, আর চতুর্থ স্থানে থাকা চেলসির থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে। এপ্রিলের পর এই প্রথম পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতল তারা। অন্যদিকে অ্যাওয়ে পারফরম্যান্সের দুর্বলতা কাটাতে না পারা নিউক্যাসল নেমে গেছে হতাশাজনক ১০ম স্থানে।