৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পি.এম

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক বাজার দখলে নিচ্ছে ভারত

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক বাজার দখলে নিচ্ছে ভারত

দীর্ঘদিনের আলোচনার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে এগোচ্ছে ভারত—যার প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপে ভারতীয় পণ্যের শুল্ক সুবিধা বাড়বে, ফলে রপ্তানিতে গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনা শেষে ইইউ ও ভারতের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ভারতের সংসদের অনুমোদন মিললে ২০২৭ সাল থেকে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাবে।

চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপে ভারতীয় পোশাক রপ্তানির ওপর আরোপিত প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মতো পণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক হ্রাস বা শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হবে।

ভারতের গণমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একটি বড় অংশ নিজেদের দখলে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। বর্তমানে ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) বাণিজ্য সুবিধার আওতায় ইউরোপে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইইউর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি–শার্টসহ কয়েকটি পণ্যে বাংলাদেশ চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইইউতে পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। এরপর রয়েছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় এক হাজার ৯৭১ কোটি ডলার।

ইইউর সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা আসার পর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি দ্রুতই সাত বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ কীভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে ইউরোপে বড় বাজার দখল করেছে—এই প্রশ্ন আমাদের করা হতো।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, প্রতিযোগিতা বাড়লেও তা থেকে তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি তৈরি হবে না। বিজিএমইএ পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প এখনও ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে। দাম, কাজের মান ও উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী।

তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ধরনে বড় পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ মূলত লো ও মিড রেঞ্জের পোশাক রপ্তানি করে, যদিও নিট পোশাকে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। তবে প্রতিযোগিতা বাড়লে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে ১০–১২ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমানোর চাপ আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এই বাস্তবতায় খরচ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেন ফয়সাল সামাদ। তার মতে, ঋণের সুদহার কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।