১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ এ.এম

৩০ বছর পরও নতুন শুরু, ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে বড় পর্দায় রানী মুখার্জি

৩০ বছর পরও নতুন শুরু, ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে বড় পর্দায় রানী মুখার্জি

বলিউডে অভিনয়জীবনের তিন দশক পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তে নতুন ছবি ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে আবারও বড় পর্দায় ফিরেছেন রানী মুখার্জি। শিবানী শিবাজি রায় চরিত্রে প্রায় তিন বছর পর দর্শকের সামনে আসা এই ছবিকে ঘিরে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং কিছু না-বলা গল্প।

নতুন ছবির মুক্তি ও অভিনয়ের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে করণ জোহর-এর সঙ্গে এক আড্ডায় অংশ নেন রানী। সেখানে সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক, ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতির কথা উঠে আসে। আড্ডার সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় শেষ দিকে, যখন রানী ও আদিত্য চোপড়া-র কন্যা আদিরা-র লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনানো হয়। মেয়ের লেখা শুনে অভিনেত্রীর চোখে জল চলে আসে।

মুম্বাইয়ের যশ রাজ ফিল্মস স্টুডিওতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেক কেটে উদ্‌যাপন করা হয় রানীর অভিনয়জীবনের তিন দশক। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৯৬ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেকের সময় তিনি বুঝতেই পারেননি অভিনয়ের পথ এতটা দীর্ঘ হবে। রানী জানান, মায়ের কথায় কাজ শুরু করে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

ক্যারিয়ারের শুরুতে ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আস্থার কথা উল্লেখ করে রানী বলেন, আদিত্য চোপড়া, করণ জোহর, শাহরুখ খান ও আমির খান-এর বিশ্বাস তার পথচলাকে সহজ করেছে। এ প্রসঙ্গে করণ জোহর জানান, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে টিনা চরিত্রে রানীর অভিনয়ের পেছনে আদিত্য চোপড়ার পরামর্শ ছিল, যা রানীর ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দেয়।

নিজের উল্লেখযোগ্য কাজের কথা বলতে গিয়ে রানী ‘ব্ল্যাক’ ছবিকে ‘লাইভ অ্যাক্টিং স্কুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সঞ্জয় লীলা বানসালি-র পরিচালনায় অমিতাভ বচ্চন-এর সঙ্গে কাজ করা তাকে অভিনেত্রী হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ‘সাথিয়া’ ছবির বাস্তব লোকেশন এবং সিঙ্ক সাউন্ড তার অভিনয়ে বাস্তবতা এনে দিয়েছিল বলেও স্মরণ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রানী বলেন, স্বামী আদিত্য চোপড়া-র সরলতা ও বিনয়ই তাদের সম্পর্কের বড় শক্তি। গোপন বিয়ের স্মৃতিচারণায় করণ জোহর জানান, মাত্র ১৮ জন অতিথি নিয়ে সেই বিয়ে হয়েছিল এবং বিষয়টি গোপন রাখতে তিনিও বেশ চাপের মধ্যে ছিলেন।

আড্ডার শেষ পর্যায়ে রানী জানান, এই সময়টা তার কাছে এক ধরনের ‘পুনর্জন্ম’। তিন দশক পার করেও নতুন করে শুরু করার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ‘মর্দানি ৩’-ই তার প্রথম ছবি। দীর্ঘ পথচলার পরও নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি যে প্রস্তুত—তার কথায় সেটিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।