২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫০ এ.এম

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষত আজও তাড়া করে ফেরে আলিয়া ভাটকে

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষত আজও তাড়া করে ফেরে আলিয়া ভাটকে

পিছনের আসনে বসেও সিটবেল্ট বাঁধতে ভোলেন না আলিয়া ভাট। সড়কে চলার সময় এখনো এক ধরনের অজানা ভয় কাজ করে তাঁর ভেতরে। কারণ, একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা একদিন তাঁর জীবনের খুব কাছের একজনকে কেড়ে নিয়েছিল—সে স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত একটি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেন আলিয়া ভাট। সেখানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও ভিকি কৌশল।

অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের একটি বেদনাময় অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন আলিয়া। তিনি জানান, মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি তার ন্যানিকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারান। ওই নারী তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন এবং পরিবারের একজন সদস্যের মতোই ছিলেন তাঁর কাছে।

আলিয়া বলেন, তিনি শুধু ন্যানি নন, ‘দিদির মতো একজন মানুষ’ ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনায় আলিয়া জানান, একদিন তাঁর ন্যানি একজন সঙ্গীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে মন্দিরে যাচ্ছিলেন। সঙ্গীর মাথায় হেলমেট থাকলেও ন্যানির মাথায় তা ছিল না। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনি ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই দুর্ঘটনা আলিয়ার মনে গভীর ছাপ ফেলে। দীর্ঘ সময় ধরে আতঙ্কে ভুগেছেন তিনি। এরপর থেকে পরিবারের সবাই নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সতর্ক হয়ে ওঠেন। আলিয়ার মা সব সময় চিন্তিত থাকতেন, এমনকি তাঁদের গাড়িচালককে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালালে চাকরি থাকবে না।

এখন নিজে মা হওয়ার পর সেই সময়ের ভয় ও নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন বলে জানান আলিয়া। তিনি বলেন, “এখন নিজে মা হয়ে এই বিষয়গুলো বুঝতে পারি।”

বর্তমানে আলিয়া ভাট জীবনের এক নতুন অধ্যায় পার করছেন। একদিকে অভিনয়ের ব্যস্ততা, অন্যদিকে মেয়ে রাহাকে ঘিরে মাতৃত্বের আনন্দে দিন কাটছে তাঁর।

এর আগে আলিয়া জানিয়েছিলেন, মেয়ের জন্মের পর তিনি ও রণবীর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—রাহাকে কখনো একা রাখা হবে না। তিনি বলেছিলেন, “রাহাকে কখনও আমি দেখব, কখনও রণবীর। যার যখন কাজ থাকবে, অন্যজন ছুটি নিয়ে সন্তানের কাছে থাকব।”