বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিঁড়া ইউনিয়নের মাঝেরচর এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করলেও এখানে নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অভাবে শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাঝেরচরে বর্তমানে একটি স্কুলও নেই। একসময় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অস্থায়ীভাবে শিশুদের জন্য পাঠদান কার্যক্রম চালু করেছিল, কিন্তু তা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরাঞ্চলের শিশুদের পড়াশোনার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই।
বিদ্যালয়ে যেতে হলে শিশুদের নদী পার হতে হয়, যা স্থানীয় অভিভাবকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। বর্ষা মৌসুম বা ঝড়-তুফানের সময় নদীপথ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাতে পারছেন না।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেক শিশু অল্প বয়সেই পড়াশোনা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ পরিবারের জীবিকা নির্বাহে নানা কাজে যুক্ত হয়ে পড়ছে। এতে চরাঞ্চলের একটি বড় অংশের শিশু মূল শিক্ষার ধারা থেকে ক্রমেই ছিটকে পড়ছে।
মাঝেরচরের অভিভাবকরা বলেন, “নদী পার হয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে প্রতিদিনই ভয় কাজ করে। যদি মাঝেরচরে একটি স্কুল থাকত, তাহলে শিশুর পড়াশোনা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যেত।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান রাজা বলেন, “ওখানে একটি সাইক্লোন সেল্টার ভবন আছে, কিন্তু তা ব্যবহারযোগ্য নয়। দ্রুত একটি ভবন প্রয়োজন। বিগত বন্যা, সিডর, আয়লায় অনেক মানুষ মারা গেছে। বরগুনার সাবেক এমপি, ডিসি, ইউএনও অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকার সারা দেশে শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু মাঝেরচরের মতো দুর্গম চরাঞ্চল এখনও অবহেলিত। দ্রুত এখানে একটি স্কুল স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।”
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশারাত জাহান বলেন, “মাঝেরচরে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সেখানে দ্রুত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য যা করা প্রয়োজন তা করা হবে।”
এইভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে মাঝেরচরের শিশুরাও শিক্ষার মূলধারায় ফিরতে পারবে এবং তাদের শৈশব ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হবে।