২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৯ এ.এম

বিদ্যাদেবীর আরাধনায় মবের বিরুদ্ধে বার্তা

বিদ্যাদেবীর আরাধনায় মবের বিরুদ্ধে বার্তা

গতকাল শুক্রবার বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অগণিত মানুষ শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পাদপদ্মে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করার প্রার্থনা করেছেন।

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণেও সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। এবারের পূজার থিম ছিল ‘মবতন্ত্রবিরোধী’, যা সামাজিক ও দলবদ্ধ সহিংসতা এবং গুজবভিত্তিক উন্মাদনার ক্ষতিকর দিকগুলো প্রতীকী শিল্পকর্মের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি সকলের শান্তি, কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

সারাদেশের মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা উদযাপন করা হয়েছে। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা ও মেলা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ দিন শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে এবং সংবাদপত্রে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনের মাধ্যমে হাজার হাজার ভক্ত উপস্থিত হন। সকাল ৬টায় প্রতিমা স্থাপন, ৮টায় পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৯:৩০ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ঢাক-ঢোল-কাঁসর ও উলুধ্বনিতে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়।

জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণের বিশাল খেলার মাঠজুড়ে দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে মূল পূজা, প্রসাদ বিতরণসহ নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। জগন্নাথ হলের ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজা আয়োজন করা হয়েছে, যা একই স্থানে সর্বাধিক সংখ্যক সরস্বতী প্রতিমার পূজা হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নথিভুক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে, জানিয়েছেন হল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক।

ঢাবির বিভিন্ন হল ও অনুষদেও বর্ণাঢ্যভাবে পূজা উদযাপন হয়েছে। ফাইন্যান্স বিভাগ মণ্ডপ সাজিয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আকারে আলোকসজ্জা ও আলপনা দিয়ে, ইংরেজি বিভাগ হাতে আঁকা মণ্ডপ নির্মাণ করেছে, আর চারুকলা অনুষদ পুকুরে মঞ্চ গড়ে পূজা আয়োজন করেছে।

রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও আশ্রমে যেমন গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা কালীমন্দির, মা আনন্দময়ী আশ্রম, স্বামীবাগের ইসকন, জয়কালী, রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর, মিরপুর, তালতলা, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে সরস্বতী পূজা উদযাপন হয়েছে।

এভাবে দেশব্যাপী সরস্বতী পূজা উদযাপন পুরোতো দেশকে উৎসবমুখর ও জ্ঞানচেতনামূলক পরিবেশে রঙ্গীন করেছে।