২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পি.এম

হলুদ মাঠে মধুর খোঁজে চাষিরা

হলুদ মাঠে মধুর খোঁজে চাষিরা

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দিগন্তজোড়া ফসলি মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেছে। আর এই ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সরিষা ক্ষেতে সারিবদ্ধভাবে কয়েকশ মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি মধু সংগ্রহের এই দৃশ্য এখন কলারোয়ার গ্রামীন জনপদে নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মৌচাষিরা স্থানীয় কৃষকদের জমিতে আবাস গড়েছেন। চাষিরা জানান, সরিষার এই মৌসুমে বিশেষ পদ্ধতিতে কৃত্রিম মৌচাক তৈরি করে বিপুল পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা হয়। একজন মৌচাষির তথ্যমতে, উপযুক্ত সময়ে প্রতিটি বাক্স থেকে আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া সম্ভব। বছরে চার মাস সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা গেলেও বাকি আট মাস কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালন করতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল। তবে সরিষার মৌসুমে সংগৃহীত মধুর বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় সেই খরচ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ব্যবসায়িক দিক থেকে লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি মধু চাষে কৃষকরাও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। সরিষা ফুলে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব কমে আসে। সংগৃহীত এই খাঁটি মধু মানসম্মত হওয়ায় স্থানীয় চাহিদ মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। এটি যেমন বেকারত্ব দূর করতে ভূমিকা রাখছে, তেমনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করছে নতুন মাত্রা।

মৌচাষিদের উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জানান, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকদের সহযোগিতা করতে এবারও বিনামূল্যে মৌবাক্স ও মধু সংগ্রহের আধুনিক যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হবে। সরকারি এই পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে কলারোয়ায় মধু উৎপাদন ভবিষ্যতে আরও বড় আয়ের উৎসে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।