১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পি.এম

কমছে নারী নেতৃত্ব: আগামী নির্বাচনেও নেই উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি

কমছে নারী নেতৃত্ব: আগামী নির্বাচনেও নেই উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। কিন্তু এই নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের চিত্র উদ্বেগজনক। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অন্তত ৩০টি দলই একজন নারী প্রার্থীও মনোনয়ন দেয়নি। 

এমনকি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। এবারের নির্বাচনে মোট নারী প্রার্থীর হার মাত্র চার শতাংশের একটু বেশি। 

৩০০ আসনে জমা পড়া ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১০৭ জন। যাচাই-বাছাই শেষে এখন পর্যন্ত টিকে আছেন ৬৮ জন নারী প্রার্থী। আপিল শেষে চূড়ান্ত সংখ্যা জানা যাবে ২০ জানুয়ারি। তুলনামূলকভাবে দেখলে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৪ জন—হার ছিল প্রায় পাঁচ দশমিক ১৫ শতাংশ। অথচ এবার অধিকাংশ দল অংশ নিলেও নারী মনোনয়ন নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ আইনি বাধ্যবাধকতার অভাব। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ নারী নেতৃত্বের শর্ত থাকলেও, নির্বাচনে কত শতাংশ নারী প্রার্থী দিতে হবে—সে বিষয়ে আইনে কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে দলগুলো নারী মনোনয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না।

জুলাই সনদ কি শুধু লিখিত দলিল?

যদিও জুলাই জাতীয় সনদে এবারের নির্বাচনে ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা বাড়িয়ে ৩৩ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু এই সনদ এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় কার্যত এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

দলভিত্তিক নারী উপস্থিতির চিত্র কী?

দলভিত্তিক চিত্রেও বৈষম্য স্পষ্ট। বিএনপি থেকে নারী প্রার্থী হয়েছেন মাত্র ১০ জন। অন্যদিকে বাসদ (মার্কসবাদী) তাদের মোট প্রার্থীর এক-তৃতীয়াংশ নারী মনোনয়ন দিয়ে ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পুরুষ প্রার্থীকে ‘নিরাপদ বিকল্প’ মনে করছে। পাশাপাশি মনোনয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনী ব্যয়ের চাপ, সহিংস রাজনীতির আশঙ্কা, সামাজিক ও পারিবারিক বাধা—সব মিলিয়ে নারীদের জন্য রাজনীতি এখনো প্রতিকূল।

কী হতে পারে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব?

এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও গুরুতর। দেশের মোট জনসংখ্যা ও ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাদের অনুপস্থিতি গণতন্ত্রকে কাঠামোগত সংকটে ফেলতে পারে। নারী কণ্ঠ দুর্বল হলে নীতি প্রণয়ন, আইন প্রণয়ন, নারী ও শিশু বিষয়ক অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশ্নের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধারা চলতে থাকলে রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবে নতুন প্রজন্মের নারীরা। আর একটি রাষ্ট্র যদি তার অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিক করে রাখে, তাহলে সেই রাষ্ট্রের গণতন্ত্র কখনোই পূর্ণতা পেতে পারে না।

সূত্র: আল-জাজিরা