ইসলাম ধর্মের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত রাত পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ, যা শবে মেরাজ নামেও পরিচিত, আজ পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন।
হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে প্রিয় নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরশে আজিমে গমন করে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দিদার লাভ করেন। সেখান থেকেই তিনি মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ বিধান নিয়ে দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন।
মুসলিম উম্মাহর কাছে শবে মেরাজ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে এই অলৌকিক ঘটনাকে ‘ইসরা’ (রাতে ভ্রমণ) ও ‘মেরাজ’ (ঊর্ধ্বগমন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে আজ শুক্রবার বাদ জুমা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মহিমান্বিত এই রাতে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মসজিদে-মসজিদে, নিজ নিজ ঘরে ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযগার, নফল নামাজ এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।
শবে মেরাজ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই রাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়, যা মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত।
ইতিহাস অনুযায়ী, নবুওয়াতের দশম বছরে বা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এক রাতে মহানবী (সা.) পবিত্র কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে নবীদের জামাতে ইমামতি করেন। কোরআনে বর্ণিত এই ঘটনাই ‘ইসরা’ নামে পরিচিত।
এরপর তিনি ‘বুরাক’ নামের বিশেষ বাহনে আরোহন করে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেন, যা ‘মেরাজ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে।