সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল-এর গ্রেড সংখ্যা পরিবর্তন না করে আগের মতোই ২০টি রাখা হয়েছে — এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পে-কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কমিশনের পূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, জানায় যুগান্তর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কমিশনের এক সদস্য জানিয়েছেন, গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনা বা পুনর্গঠনের প্রস্তাব থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে বর্তমান কাঠামোই থেকেই যাবে এবং সম্পূর্ণ নতুন গ্রেড সংখ্যা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। তবে বেতন বৃদ্ধি, পেনশন ও চিকিৎসা ভাতাসহ ভিন্ন ভাতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের হার নির্ধারণে মত একাত্মতা না হওয়ায় বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিন সভার শেষে পে-কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার পদত্যাগ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রস্তাবিত ৩৩টি সুপারিশের কোনো বাস্তব প্রতিফলন পাওয়া যায়নি, তাই তিনি কমিশন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন বেতন ও বেতন অনুপাত নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে এ পর্যায়ে নতুন পে স্কেল কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি এবং ২১ জানুয়ারি এই বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলে বেতন নির্ধারণে একটি সবুজ সংকেত নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা পুরোপুরি সফল হয়নি বলে জানা গেছে।
এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঘটেছে, কিছু সংশ্লিষ্ট মনে করছেন বর্তমান গ্রেড কাঠামো বজায় রাখলে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মী লাভবান, আবার অনেকে দীর্ঘমেয়াদে বেতন বৈষম্য কমানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ কর
ছেন।