১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৫ পি.এম

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অথবা আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়।

রিটে আরও বলা হয়, সরকার লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এর একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

আবেদনে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ উসমান হাদির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে।

রিটে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান আরও উল্লেখ করেন, সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

এই পরিস্থিতিতে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার—‘জীবনের অধিকার’—এর চরম লঙ্ঘন হবে বলে রিটে দাবি করা হয়। তাই সব লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।