১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩১ পি.এম

এলপিজি আমদানিতে অর্থায়ন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

এলপিজি আমদানিতে অর্থায়ন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে অর্থায়নসংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)। স্থানীয় আমদানিকারকদের আর্থিক চাপ কমাতে এখন সরবরাহকারী বা ক্রেতা ঋণের মাধ্যমে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত ইউসেন্স (usance) সুবিধা পাওয়া যাবে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন পাইপলাইন গ্যাস ও বোতলজাত এলপিজি—উভয় ক্ষেত্রেই সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও রেস্তোরাঁগুলো দৈনন্দিন রান্নার কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সংকটের প্রভাবে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আকারভেদে ৩৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সীমিত সরবরাহের কারণে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে, যা গৃহস্থালি ও ব্যবসা—দু’পক্ষের ওপরই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে তা সিলিন্ডারে ভরে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও অন্যান্য কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হওয়ায় এলপিজিকে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুযায়ী, শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা ক্রেতা ঋণের আওতায় সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত ইউসেন্স সুবিধা বা ক্যাশ কনভার্সন সাইকেল—যেটি আগে হয়—প্রযোজ্য।

সরবরাহকারী ঋণের পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা ঋণের ব্যবস্থা করতেও দেশীয় ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা নীতি ও প্রুডেনশিয়াল ক্রেডিট নীতিমালা অনুসরণ সাপেক্ষে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরা বাড়তি আর্থিক স্বস্তি পাবেন এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও তারল্য সংকটের মধ্যেও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনয় সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।