নতুন বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের সুসংবাদ এল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আশা করছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স আবারও ৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে।
১০ দিনে ১১২ কোটি ডলারের আয়:
রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে প্রবাসীরা মোট ১১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এ বছর ১০ দিনেই রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪১ কোটি ডলার।
ভাঙছে পুরনো সব রেকর্ড:
সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসেও প্রবাসী আয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখা গেছে। বিজয়ের মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স। এর আগে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে। ব্যাংকিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের উৎসাহ এবং ডলারের স্থিতিশীল বাজার এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
চলতি অর্থবছরের রেমিট্যান্স চিত্র:
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ডলার দিয়ে শুরু হয়ে প্রতি মাসেই আয়ের পরিমাণ বাড়ছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও সেই জোয়ার বজায় রয়েছে।
একনজরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স (মিলিয়ন ডলারে):
জুলাই: ২,৪৭৭.৮
আগস্ট: ২,৪২১.৯
সেপ্টেম্বর: ২,৬৮৫.৮
অক্টোবর: ২,৫৬৩.৫
নভেম্বর: ২,৮৮৯.৫
ডিসেম্বর: ৩,২২৬.৬
জানুয়ারি (১০ তারিখ পর্যন্ত): ১,১২৭.০
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।