৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৫ পি.এম

ব্যবসায়ীরা বন্ধ রেখেছেন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, সংকট কাটাতে জ্বালানি বিভাগের ৫ উদ্যোগ

ব্যবসায়ীরা বন্ধ রেখেছেন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, সংকট কাটাতে জ্বালানি বিভাগের ৫ উদ্যোগ

দেশজুড়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে একযোগে পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে এলপিজির আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং ধীরে ধীরে বাজারের ঘাটতি কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে আমদানিকারকদের মতে, উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগবে। এর মধ্যেই সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নেমেছেন। ঘোষণামতে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলপিজি আমদানি বাড়ানোর লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) আজ চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে গতকাল বুধবার এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঘোষণা দেয়, আজ সকাল থেকে তারা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখবে। সংগঠনটির ভাষ্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি স্থগিত থাকবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাসহ গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে সকাল থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে এসব এলাকার বাইরে দেশের অন্যান্য জেলায় এখনো এলপিজি বিক্রি স্বাভাবিকভাবে চলছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ বিকেলে বিইআরসির সঙ্গে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে এলপিজি বিক্রি পুনরায় শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাবি মেনে নেওয়া হলে তারা আবার বিক্রি শুরু করবেন, অন্যথায় ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ‘এলপিজির আমদানি বাড়াতে চেয়ে অনুমতি পাননি ব্যবসায়ীরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এলপিজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করে জ্বালানি বিভাগ।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনই তো সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। তবে আমদানি বাড়াতে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এলপিজির সরবরাহ বাড়বে।’

জ্বালানি বিভাগের নেওয়া পাঁচ উদ্যোগ
১. এলপিজি আমদানির জন্য ঋণপ্রাপ্তির আবেদন ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
২. সবুজ জ্বালানির গুরুত্ব বিবেচনায় এলপিজি উৎপাদন ও আমদানিতে আরোপিত ভ্যাট কমানোর অনুরোধ জানিয়ে এনবিআরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
৩. আমদানির সিলিং বাড়ানোর জন্য ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড আই গ্যাস ও ডেল্টার আবেদনের বিপরীতে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিইআরসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
৪. জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিসভা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৫. অপারেটরদের আমদানি করা এলপিজির প্রকৃত চিত্র জানতে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আশপাশের স্টোরেজ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানি থেকে শুরু করে ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হবে।