৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ এ.এম

শব্দদূষণ ঠেকাতে রাজধানীতে ১০ দিনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, চলছে জরিমানা

শব্দদূষণ ঠেকাতে রাজধানীতে ১০ দিনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, চলছে জরিমানা

অতিরিক্ত হর্ন আর কোলাহলে নাকাল রাজধানী- এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে একযোগে আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রিন ভয়েস জানায়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ১০ কর্মদিবস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং পরিবেশবাদী যুবসংগঠন গ্রিন ভয়েসের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রথম দুই দিনেই মামলা ও জরিমানা

ক্যাম্পেইনের প্রথম দুই দিনে অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ সময় মোট ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রিন ভয়েসের দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী যানবাহনে সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো এবং লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে উদ্বোধন

গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহছিনা আকতার বানু। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন,
“শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে শব্দদূষণ একটি মারাত্মক পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সরকার পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি

অনুষ্ঠানে গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন,
“শব্দদূষণ শুধু শ্রবণশক্তির ক্ষতি করে না, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শব্দদূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট খলিলুল্লাহ।

উপস্থিতি ও র‍্যালি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. ফজলে এলাহী, প্রকল্পের ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান, গ্রিন ভয়েসের সহসমন্বয়ক শাকিল কবির ও ফাহমিদা নাজনীন।

উদ্বোধনের পর জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিতে শব্দদূষণবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও প্রতীকী মাস্ক ব্যবহার করা হয়।

১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে কার্যক্রম

আয়োজকদের জানানো তথ্যমতে, এই ক্যাম্পেইন আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর আজিমপুর, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, আগারগাঁও, পরিকল্পনা কমিশন মোড়, শিক্ষা ভবন, জিরো পয়েন্ট, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল মোড়, গুলশান-২ চত্বর এবং টিএসসিতে পরিচালিত হবে।