৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪ এ.এম

রপ্তানিতে ধ্বস , ডিসেম্বরে পতন ১৪ শতাংশ

রপ্তানিতে ধ্বস , ডিসেম্বরে পতন ১৪ শতাংশ


রফতানি খাতে টানা পাঁচ মাসের নেতিবাচক প্রবণতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে দেশের পণ্য রফতানি কমেছে ১৪ শতাংশ, যা গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। এ মাসে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৭ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৪৬২ কোটি ডলারের পণ্য।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে রফতানি কমে যাওয়াকে দুশ্চিন্তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকেরা। তাদের ভাষ্য, মার্কিন পালটা শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে এবং প্রত্যাশিত হারে নতুন ক্রয়াদেশ আসছে না। পাশাপাশি চীন ও ভারতের ওপর উচ্চহারে পালটা শুল্ক আরোপের ফলে ওই দেশের উদ্যোক্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করছেন। এতে বাংলাদেশের রফতানিকারকেরা তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।

বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানির ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে এই খাতে সামান্য মন্দাভাবও সামগ্রিক রফতানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। চলতি অর্থবছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা চার মাস তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে, যা সামগ্রিক রফতানি চিত্রকে আরও দুর্বল করেছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আরেকটি বড় উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।

রফতানির সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের পণ্য রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারের, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে পণ্য রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২ হাজার ৪৫২ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।

মাসভিত্তিক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে পণ্য রফতানি হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। তবে আগস্টে রফতানি তিন শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩৯২ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছর একই মাসে ছিল ৪০৩ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে রফতানি আরও নেমে আসে ৩৬৩ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম। অক্টোবর ও নভেম্বরে যথাক্রমে ৩৮২ কোটি ও ৩৮৯ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। এই দুই মাসে রফতানি কমেছে যথাক্রমে সাত শতাংশ ও সাড়ে পাঁচ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, শুল্কনীতি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে রফতানি খাতে নীতিগত সহায়তা ও বাজার বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। না হলে আগামী মাসগুলোতেও রফতানির এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।