ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন চোখ ধাঁধানো হলুদের সমারোহ। চলতি মৌসুমে সরিষার ভালো ফলনে আনন্দিত জেলার কৃষকরা, আর কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনায় তাদের মুখে হাসি। সোনালি ফুলে ভরে ওঠা বিস্তীর্ণ মাঠ যেন জানান দিচ্ছে এক সম্ভাবনাময় কৃষি মৌসুমের কথা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় মোট ১৩ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ এলাকায় ফলন হয়েছে আশানুরূপ। স্বল্পমেয়াদি ফসল হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে সরিষার দিকে, যা জেলার ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের কৃষক আলামিন হোসেন জানান, ‘এই ফসল আবাদে খরচ খুবই কম। বোরো ধান কাটার পরে প্রায় তিন মাস জমি ফাঁকা পড়ে থাকে। এই সময়টুকুতে আমরা সরিষার আবাদ করেছি। প্রায় ২ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। বিঘাপ্রতি ১০-১২ হাজার টাকা লাভ হবে এবার।’
আরেক কৃষক বসির উদ্দিন বলেন, ‘সরিষার আবাদ করলে জমির উর্বরতা প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া আমাদের একটা বাড়তি আয় হয়। স্থানীয় বাজারে সরিষার তেলের ব্যাপক চাহিদা। যে কারণে সরিষার চাষ দিন দিন বাড়ছে।’
কৃষি বিভাগের মতে, কম সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়া, উৎপাদন খরচ কম এবং বাজারে চাহিদা থাকায় সরিষা এখন ঝিনাইদহের কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।