১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩১ পি.এম

ই-সিগারেট, ভ্যাপসহ সব বিকাশমান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ: নতুন অধ্যাদেশ জারি

ই-সিগারেট, ভ্যাপসহ সব বিকাশমান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ: নতুন অধ্যাদেশ জারি

অন্তর্বর্তী সরকার ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং অন্যান্য বিকাশমান তামাকজাত দ্রব্যাদি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এখন থেকে আইনগতভাবে বলবৎ হবে। 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে জারি করা এই অধ্যাদেশে সিগারেটের পাশাপাশি ই-সিগারেট, ইএনডিএস (ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচসহ সব বিকাশমান তামাকজাত দ্রব্যকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

 

অধ্যাদেশে ‘পাবলিক প্লেস’ এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস, আদালত, রেলস্টেশন, বিপণীবিতান, শিশু পার্কসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত ও জনসমাগমস্থলেও ধূমপান ও অন্য কোন ধূমপানজাত দ্রব্য ব্যবহার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

 

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এই নিষেধের বিধান লঙ্ঘন করে, তাহলে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। 

 

এছাড়া অধ্যাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে কোন ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বা প্রদর্শনীও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও ছবি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মানসম্মত প্যাকেজিং ছাড়া পণ্য বিক্রিও নিষিদ্ধ থাকবে। 

 

এই অধ্যাদেশ দ্রুতকার্যে নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য হলো জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং ক্ষতিকর আসক্তিমূলক পণ্যের প্রভাব কমিয়ে আনা, বিশেষত তরুণ ও স্কুল-ছাত্রদের মধ্যে তামাকজাত পণ্য ব্যবহারের হার নিয়ন্ত্র

ণে আনা।